মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে : রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম-খুনের নির্দেশদাতা : স্পিকার আশুলিয়ায় চাঁদার দাবিতে সাংবাদিকের উপর হামলা , হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নৌভ্রমণে সাংবাদিক-পরিবারের মিলনমেলা, ঐক্যের বার্তা মিরপুর প্রেসক্লাবের। সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নড়াইলের লোহাগড়া কুপিয়ে হত্যা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।
Headline
Wellcome to our website...
নাটকীয় ভাবে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা
/ ৭৪ সময় দেখুন
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অবিস্মরণীয় এক রূপকথার জন্ম দিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত দেখাচ্ছিল, ঠিক তখনই দেখা গেল আলবিসেলেস্তেদের সেই চেনা রুদ্ররূপ। পেনাল্টি মিস, গোল বাতিল আর জোড়া গোল হজমের হিমালয়সম চাপ সামলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে মিশরকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) প্রবেশ করেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মার্সিডিজ-বেঞ্জে শুধুই আলবিসেলেস্তে উল্লাস।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। মিশরের অবিশ্বাস্য রূপকথার সমাপ্তি ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। বিশ্বমঞ্চে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই বীরত্বপূর্ণ কামব্যাক ফুটবল ভক্তদের যুগের পর যুগ রোমাঞ্চিত করবে। খাদের কিনারা থেকে সমতা এ যেন বিশ্বাস যোগ্য নয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আটালান্টায় মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় ম্যাচে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে ১১ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে আর্জেন্টিনা অসাধারন এক জয়ে গল্প রচনা করলো। ম্যাচের নাটকীয়তা কম ছিলনা। দলের প্রাণভোমরা মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন। পরে আবার সেই মেসির গোলেই ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তার আগে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা মেসির এ্যাসিস্টে ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে মিশর যখন ঐতিহাসিক এক জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই বরাবরের মত মেসি দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। স্টপেজ সময়সহ শেষ ১১ মিনিটে আর্জেন্টিনা ফিরে আসার গল্প রচনা করে। এনিয়ে টানা নয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। একইসাথে আট গোল করে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে আর্জেন্টিনার গোলে সূচনা। এরপর মেসির গোলে সমতা এবং স্টপেজ টাইমের দুই মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত হয়। আর এতেই হৃদয় ভাঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের।ম্যাচ শেষে দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তনে মেসিকে চোখের পানি ফেলতে দেখা গেছে। মিশরের বিপক্ষে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত যাওয়ায় দলটি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পরবর্তী উত্তেজনায় মিশরের কোচিং স্টাফের একজন সদস্য লাল কার্ডও দেখেন।শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুক্রবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ক্লান্ত দেখানোর পর কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে কিছু পরিবর্তন আনেন। মিয়ামিতে শুরু করা একাদশ থেকে নিকোলাস টাগলিয়াফিকো, লিন্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ান আলভারেসকে দলে নিলেও আর্জেন্টিনা আবারও ধীরগতিতে ম্যাচ শুরু করে।মারওয়ান আতিয়ার ক্রস পেছনের পোস্টে পৌঁছালে ইয়াসের শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠিয়ে ১৫ মিনিটে মিশরকে এগিয়ে দেন।পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিন। বক্সের ভেতরে হাইসেম হাসানের ফাউলের শিকার হন টাগলিয়াফিকো। কিন্তু বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসির দুর্ভাগ্যের গল্পে যোগ হয় আরেকটি অধ্যায়। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর নেওয়া শটটি ছিল কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে তা ঠেকিয়ে দেন। ফলে বিশ্বকাপে টাইব্রেকার বাদে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিই এখন মিস করলেন মেসি। একই সঙ্গে তিনি এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলারও হলেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।এরপর একেবারে কাছ থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্তিশালী হেডও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আল আহলির এই গোলরক্ষক।এরপর আলভারেসের নিচের কোণ লক্ষ্য করে নেওয়া শট অসাধারণ এক সেভে ঠেকিয়ে দিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা সেভগুলোর একটি উপহার দেন।এক ঘণ্টা খেলার পর দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে মিশর ভেবেছিল তারা ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে। মোহাম্মদ সালাহ বল বাড়িয়ে দেন মোস্তফা জিকোর কাছে। তিনি এগিয়ে আসা এমি মার্টিনেসের ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে পাঠান।কিন্তু গোল উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের আক্রমণ গড়ে ওঠার শুরুতে মিশরের বক্সের ঠিক বাইরে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ওপর ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের অত্যন্ত বিতর্কিত হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।এই সিদ্ধান্তে গ্যালারিতে থাকা অধিকাংশ আর্জেন্টাইন সমর্থক উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর আরেকটি দ্রুতগতির মিশরীয় পাল্টা আক্রমণে তারা আবারও স্তব্ধ হয়ে যায়। আবারও আক্রমণের নেতৃত্ব দেন সালাহ। তিনি বল বাড়িয়ে দেন হাসানের কাছে, যার নিচু ক্রস থেকে জিকো সহজেই বল জালে জড়ান।দ্বিতীয়ার্ধেও কুলিং ব্রেকের সময় মেসিসহ আর্জেন্টিনার অনেক খেলোয়াড়কে মাথা নিচু করে থাকতে দেখা যায়। তখন মনে হচ্ছিল দলটি পরাজয়ের দিকেই এগোচ্ছে।কিন্তু ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেডে আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সূচনা করে। শিরোপাধারীরা যেন পরাজয়ের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায়।কিছুক্ষণ পর মেসির দুর্দান্ত একক দৌড় থেকে সুযোগ পান লটারো মার্তিনেস, কিন্তু তাঁর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হতে সাত মিনিট বাকি থাকতে নিজের মুক্তির মুহূর্তটি পেয়ে যান মেসি। গনসালো মন্টিয়েল বল পেছনে বাড়িয়ে দিলে ৮৩ মিনিটে অধিনায়ক মেসি দারুণ এক হাফ-ভলিতে শট নেন।শোবেইর আবারও বলে হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হলেও তা বাইরে ঠেলে দিতে পারেননি। বল ক্রসবারে লেগে জালে ঢুকে যায়, আর তাতে বিশ্বকাপে নিজের ২১তম গোলটি করেন মেসি।লটারো মার্তিনেসের ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের শক্তিশালী হেড আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করে। শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা শিবিরের স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।আর্জেন্টিকার ইস্পাতকঠিন মানসিকতা ও ডাগআউটের জয়: ০-২ পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে নেওয়া আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী মানসিকতারই প্রমাণ। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজের নিয়ন্ত্রণ এবং কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করার নিখুঁত টাইমিং ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। প্রথমার্ধের ভুলগুলো শুধরে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগকে শক্ত করে আলবিসেলেস্তেরা, যার ফলে মিশরের আক্রমণভাগ আর কোনো সুযোগ পায়ন প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও ম্যাচ ধরে রাখতে না পারা মিশরের সবচেয়ে বড় ট্যাকটিক্যাল ব্যর্থতা। লিড পাওয়ার পর অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়া তাদের ডিফেন্সকে এলোমেলো করে দেয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার কাউন্টার অ্যাটাকগুলো থামানোর জন্য মিশরের মিডফিল্ডে কোনো সঠিক ব্লকিং ছিল না, যার চড়া মূল্য দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ফারাওদের।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। মিশরের অবিশ্বাস্য রূপকথার সমাপ্তি ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। বিশ্বমঞ্চে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই বীরত্বপূর্ণ কামব্যাক ফুটবল ভক্তদের যুগের পর যুগ রোমাঞ্চিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.