মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজারে এমবিবিএস নামধারী এক চিকিৎসক ডাঃ রিজুয়ান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামান্য ঠান্ডা-জ্বর, কাশি বা সাধারণ অসুস্থতায় শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ভাবে দিচ্ছেন নামী দামী এন্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ এবং ব্যথানাশক ডাইক্লোফেনাক—যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগী দেখার সময় তিনি কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজন বোধ করেন না। এমনকি জ্বর মাপা কিংবা প্রাথমিক শারীরিক পর্যবেক্ষণ ছাড়াই তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব রোগীকেই প্রায় একই ধরনের ওষুধ দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে সাধারণ রোগকেও মারাত্মক অবস্থায় রূপ দিতে পারে। এতে মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, ওজন অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যেতে পারে, এমনকি টাইপ-১ ডায়াবেটিস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—রোগ দ্রুত সারানোর নামে তিনি শিশুদের দিচ্ছেন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টেরয়েড ব্যবহারে শিশুদের মাংসপেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, কিডনি ও লিভারের জটিলতা, এমনকি পঙ্গুত্ব পর্যন্ত দেখা দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান,
ডাঃ রিজুয়ান মাত্র ১০০ টাকা ভিজিট নেন, কিন্তু প্রেসক্রিপশনে এমন সব দামী ওষুধ দেন যে এখন আমার বাচ্চা ওই ওষুধ ছাড়া সুস্থই হতে চায় না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাঃ রিজুয়ান বিশ্বাস বলেন,
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। অনেক সময় ভুল হয়ে যায়, তবে আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি। রোগীরা অল্প টাকায় দ্রুত আরোগ্য চায়, তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রেসক্রিপশন দেই।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসক বলেন,
রোগীদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারে শিশুদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এ ধরনের মুনাফালোভী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি এবং জনগণকেও আরও সচেতন হতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অনিয়মের নামে চিকিৎসা না হয়ে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি না বাড়ে।

