বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
নিশিতা মন্ডল, ডুমুরিয়ার অদম্য এক পরিশ্রমী নারী উদ্দোক্তা সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে মৃত ৫: আহত ১২ কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলো সরকার প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের বেইজিং পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোলাহাটে বসত বাড়ীর ৪টি ঘর আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মিভূত,ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ৬ লক্ষাধিক টাকা। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে রাস্তার কাজের উদ্বোধন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১২ বোতল বিলাতী মদ সহ গ্রেফতার -০২ ত্রিশালে জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি উদ্ধার সহ গ্রেফতার -০৩
Headline
Wellcome to our website...
অস্থিরতার দিকে দেশ—জবাবদিহির সংকটে রাজনীতি ও নিরাপত্তাহীনতায় জনসাধারণ
/ ৩৭৯ সময় দেখুন
আপডেট : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৯ অপরাহ্ন

আওরঙ্গজেব কামালঃ দেশ আজ চরম অস্থিরতার এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রতিক সময়ের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়ংকরভাবে অধোগতির দিকে যাচ্ছে—এ অভিযোগ এখন শুধু বিশেষজ্ঞদের নয়; বাজারে, রাস্তায়, গণপরিবহনে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষের কথায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একই আতঙ্ক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ছিনতাই, রাহাজানি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, খুন-খারাপি—সব ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাগরিক সমাজের মনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, সাধারণ মানুষ নিজেদের বাড়িতেও নিরাপদ বোধ করছেন না।শহর–নগর থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত অপরাধের ঘটনা প্রতিদিন নতুন রূপে হাজির হচ্ছে। দিনের আলোয় পথচারীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনতাই, রাতে বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি—সবই যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা দুঃসাহসী হয়ে উঠছে; অনেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ভয় নেই, accountability নেই, শাস্তির সম্ভাবনাও নেই। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে নেমে গেছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা বিধ ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহির সংকটকে বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন অপরাধের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ নিজ বাড়িতেও নিরাপদ নয়—এমন অভিযোগও দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দিনের বেলায় পথচারীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনতাই, রাতে বাড়িতে ডাকাতি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজির মতো ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক নাগরিক। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে আইনের আওতায় না আসায় দুঃসাহসী হয়ে উঠছে—যা জনমনে আতঙ্ক আরও গভীর করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটি অস্বাস্থ্যকর সংকেত। জবাবদিহির অভাব এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষ এখন চায়—রাজনীতি হোক স্থিতিশীল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হোক আরও দৃঢ় ও নিরপেক্ষ, এবং প্রশাসন নিশ্চিত করুক কার্যকর জবাবদিহি। কারণ নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাই এখন জনগণের প্রধান দাবি। বর্তমান পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের। গত ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি। নাগরিকেরা আর নিজের ঘরেও নিরাপদ নন—এটাই আজকের বাস্তবতা। এমন অবস্থায় গণতন্ত্র, উন্নয়ন, নির্বাচন—সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে, যদি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করা না যায়। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে হত্যাকাণ্ডের প্রবাহ যে ভাবে বাড়ছে তাতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কোথায়?রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালাইলা আফরোজ ও তার কিশোরী কন্যা নাফিসা বিনতে আজিজের নির্মম হত্যাকাণ্ড, অথবা তার আগের দিন রংপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে হত্যা—এসব ঘটনা বাংলাদেশের নাগরিক বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।একটি স্বাধীন দেশ, একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া রাষ্ট্রে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও যদি এভাবে মরতে হয়—তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়? বছরের প্রথম ১০ মাসে ৩,২৩০ জন খুন হয়েছেন—প্রতিদিন গড়ে ১১ জন। এই পরিসংখ্যান শুধু উদ্বেগজনকই নয়, এটি বলে দেয় রাষ্ট্র তার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এটা আমার কথা নয় এটা সর্ব সাধারনের মতামত। সবচেয়ে বেশি খুন ঢাকায়—যেখানে দেশের সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা শক্তি মোতায়েন থাকে। প্রশ্ন ওঠে—তাহলে বাকি অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা দুর্বল? সেটা আর বলার অপেক্ষ রাখে না। বর্তমানে নির্বাচন কে সামনে রেখে একটি পক্ষ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। রাজনীতির পরিন্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তারা কোন গণতন্ত্রের ধারধারে না। যদিও রাজনৈতিক ময়দান নির্বাচন মুখি তবে সেটা কতটা উৎসব মুখর সেটা এখন দেখার বিষয়। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনীতিতে তিক্ততা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা, সংলাপ বা সহযোগিতার পরিবেশ তো নেই-ই, বরং পরিস্থিতি আরও সংঘাতমুখী হচ্ছে। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কেউ কারও কথা শুনতে চায় না; কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। গণতন্ত্র মানে মতের অমিল, কিন্তু সে অমিলকে ঘিরে সহনশীলতা থাকা জরুরি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভুলে গেছে এই সত্য। কিছু দল নির্বাচনের পর সমন্বিত সরকার বা সর্বদলীয় প্রতিনিধিত্বের কথা বললেও, মাঠপর্যায়ের রাজনীতি বলছে—দলগুলো একে অপরকে শত্রু মনে করছে, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এটি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। দেশে বিভিন্ন বিষয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত আন্দোলন অব্যহত রয়েছে। একটি পক্ষ জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিদেশী মিডিয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো দেশের জন সাধারন পড়েছে বিপাকে। অন্যদিকে বিভিন্ন তথাকথিত আন্দোলন চলছে যেগুলোর উদ্দেশ্য বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়; বরং জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বিচারহীনতা, সুশাসন—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেন আলোচনা থেকে উধাও। পরিবর্তে তৈরি করা হচ্ছে উত্তেজনা, বিভ্রান্তি এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ। জনগণ এখন আর রাজনৈতিক নাটক ও ফাঁপা প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে না। তারা ফলাফল চায়—বাস্তব পরিবর্তন চায়। গণতন্ত্রের মোড় বদলের ঝুঁকি মনে হচ্ছে আরো বহুগুন বেড়ে গেছে। আজ বাংলাদেশ এমন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে। রাজনীতি যখন স্বচ্ছতা হারায়, নেতারা যখন দায়িত্ববোধ ভুলে যান, যখন আইনের শাসন ভেঙে পড়ে—তখন গণতন্ত্র নিজেই বিপন্ন হয়ে পড়ে। আমি মনে করি রাজনীতিকদের এখনো সময় আছে। দেশের সার্থে সমজোতার প্রয়োজন। আপনারা চাইলে সংঘাত থেকে ফিরে এসে সংলাপের পথে হাঁটতে পারেন, জনগণকে কেন্দ্র করে রাজনীতি সাজাতে পারেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনারা এই বাস্তবতা না বোঝেন—তাহলে ক্ষমতার লড়াইয়েই দেশ ডুবে যাবে, আর জনগণ হারাবে তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ। এই দেশ বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্ত সেটা কতটুকু বাস্তবে রুপদান করা গেছে সেটা অবশ্যই সকলে জানেন। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার এক ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলন, যা তীব্র গণবিক্ষোভের মাধ্যমে ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগে বাধ্য করে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার ভয়ে শেখ হাসিনা পালিয়েছে। নতুন একটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এদেশের জনসাধারন। কিন্ত নেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ভয়ঙ্কর হয়ে দাবড়িয়ে বেরাচ্ছে। এত প্রণের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ। সেই রাষ্ট্রের রাজনীতি যদি আবারো আত্মবিধ্বংসী পথে হাঁটে, তাহলে আমাদের অর্জন ধুলায় মিশে যাবে। এই সংকট শুধু সরকারের নয়—এটি পুরো জাতির সংকট। রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে এখনই দায়িত্বশীল হতে হবে। নইলে সামনের দিনগুলো আরও অন্ধকার, আরও অনিশ্চিত।বাংলাদেশ বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের জাতি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিবারই জনগণ বিজয়ী হয়েছে।
জুলাইয়ের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানও দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তব রূপ পাচ্ছে না। বরং নতুন ভয়, নতুন অস্থিরতা, নতুন অন্ধকার জনগণকে ঘিরে ধরেছে।

একটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন পুরো রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে—এটাই আজকের কঠিন বাস্তবতা।রাজনীতি যখন স্বচ্ছতা হারায়, যখন নেতারা দায়িত্ববোধ ভুলে যান, যখন আইনের শাসন ভেঙে পড়ে—তখন গণতন্ত্র নিজেই বিপন্ন হয়ে পড়ে। আজ আমরা যেন সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি।বাংলাদেশ বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। এই রাষ্ট্রকে আত্মবিধ্বংসী পথে যেতে দেওয়া যাবে না।সময়সীমা খুব অল্প—কিন্তু এখনো দেরি হয়নি। সামনে এগোতে চাইলে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।
লেখক ও গবেষকঃ
আরেঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.