শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক, কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির আহবান। আশুলিয়ার জামগরায় মাদক সহ চার পেশাদার মাদক কারবারি ডিবির হাতে আটক। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবন কারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড। সিংগাইরে ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, ৪ দিনব্যাপী আয়োজন পটুয়াখালীর দুমকিতে গাড়ি চাপায় নিহত-১ টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ভোলাহাট প্রেসক্লাব–পরিবারের বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত।
Headline
Wellcome to our website...
সাংবাদিক নির্যাতন ও বিভাজন: কলমের যোদ্ধারা আজ শত্রুতে পরিণত
/ ২৬৪ সময় দেখুন
আপডেট : রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:২১ অপরাহ্ন

আওরঙ্গজেব কামাল : বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আজ এক অস্বাভাবিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। সাংবাদিকরা এখন জীবন এবং মৃত্যুর সন্নিকটে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সত্য প্রকাশের জন্য যাদের কলম চালানো উচিত, তারাই আজ নানা নির্যাতন, বিভাজন ও অবিশ্বাসের শিকার। এখন পত্রপত্রিকা খুললেই সাংবাদিক নির্যাতনের খবর মুখরোচিত হয়ে উঠেছে। যে যার মতো করে সাংবাদিকদের নিয়ে মব তৈরি করার চেষ্টা করছে। গত ৫ই আগস্ট থেকে শুরু করে মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশে অসংখ্য সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ গুম হয়েছেন, কেউ মামলা-হামলায় জড়িয়ে পড়েছেন, আবার কেউ সরাসরি খুন হয়েছেন।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে—শুধু আগস্ট মাসেই অন্তত ৩৯টি ঘটনায় ৭২ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন নিহত, ৩৩ জন আহত, ৫ জন মারধরের শিকার, ১১ জন হুমকি পেয়েছেন, ১৯ জন চাকরি হারিয়েছেন এবং ১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া, Transparency International Bangladesh (TIB) জানিয়েছে, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ৪৯৬ জন সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন এবং অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। Rights and Risks Analysis Group (RRAG) জানিয়েছে, একই সময়ে ৮৭৮ জন সাংবাদিককে টার্গেট করা হয়েছে, এবং ১৯৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।এর বাইরেও রয়েছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। এখন সাংবাদিকদের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে সাংবাদিক নিজেই। এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিককে হেয় করছে, অপমান করছে, এমনকি প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এতে পেশার মর্যাদা শুধু ক্ষুণ্ণই হচ্ছে না, ভেতর থেকে সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। আরও দুঃখজনক হলো, বর্তমানে অনেক অশিক্ষিত মানুষও সাংবাদিকতার নামে যুক্ত হচ্ছে। অনেকে আছেন যারা নিজের নাম সই করতে পারেনা, অথচ তারা এখন সাংবাদিক পরিচয় নিয়ে মাঠে নামছেন। এই প্রবণতা সত্যিকারের পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য বিপজ্জনক। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক যদি প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হন এবং তার পাশে কেউ না থাকে, বরং অশিক্ষিত নতুনরা সাংবাদিকতার নামে মিডিয়ায় ঢুকছেন, তখন পেশার মান ও আস্থা হারানো স্বাভাবিক।এ অবস্থায় শুধু এক ধরনের নির্যাতনই নয়, বরং সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিভাজনের কারণে সাংবাদিক সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এক পক্ষ অপরকে শত্রু হিসেবে দেখছে, কলমের স্বাধীনতা ব্যাহত হচ্ছে, আর গণমানুষের কাছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসও কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নির্যাতনের পাশাপাশি এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনই সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। যখন সাংবাদিকরা একে অপরের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হন, তখন সত্য প্রকাশের পথ আরও কঠিন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের পেশাগত ও নৈতিক দায়বদ্ধতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্র এখন যে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, তা স্পষ্ট। কেউ সরকারি প্রকল্প বা রাজনৈতিক নেতার সাথে ছবি যুক্ত করে নিজেদের পেশাগত স্বার্থে প্রচারণা চালাচ্ছেন, আবার কেউ সহকর্মীকে ছোট করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে সাংবাদিক সমাজের অভ্যন্তরীণ সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিকরা এখন একদিকে যেমন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বও বাড়ছে। এই দ্বন্দ্ব শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সমগ্র পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণ মানুষ পেশার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, আর সত্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সাহসও কমছে। আজকের বাস্তব চিত্র থেকে বোঝা যায়, সাংবাদিক সমাজকে শক্তিশালী করতে হলে—প্রথমে তাদের নিজেদের মধ্যকার বিভাজন দূর করতে হবে। এক সাংবাদিককে আরেক সাংবাদিকের শত্রু হিসেবে নয়, বরং সহযোগী হিসেবে দেখা প্রয়োজন। আর যারা পেশার মৌলিক শর্ত পূরণ না করেই সাংবাদিক পরিচয়ে আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই দুই দিকের সমাধানের ওপর—বাহ্যিক চাপ ও নির্যাতনের মোকাবিলা করা, এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অপেশাদার প্রবেশ রোধ করা। শুধু তাই নয়, পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার মান বজায় রাখা সাংবাদিক সমাজকে শক্তিশালী ও গণমানুষের আস্থার যোগ্য করে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো অপরিহার্য। অপেশাদার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি এবং বাহ্যিক নির্যাতন মোকাবিলা করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করতে হবে। সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়; এটি জনগণের আস্থা, সত্য ও স্বাধীনতার প্রতীক। সাংবাদিকরা একত্রিত হতে হবে, কলমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমাতে হবে এবং যারা অপেশাদারভাবে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। যদি এসব ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সাংবাদিকতা শুধু নির্যাতনের শিকার হবে না, বরং গণমানুষের আস্থা হারাবে এবং পেশার ভবিষ্যৎও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজকে এখন একত্রিত হয়ে নতুনভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজন, যাতে কলম সত্যের জন্য স্বাধীন থাকে এবং গণমানুষের আস্থা বজায় থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.