মোঃ রোকুনুরজ্জামান টিপুঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পূর্ব-নলতায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হালিমা বেগম (২৮) নামের ২ সন্তানের জননীকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মহল বিশেষের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রাণ নাশের হুমকি ও মব সন্ত্রাস আতঙ্কে স্বপরিবারে ওই গৃহবধূকে ঘরছাড়া হতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির। সে উপজেলার পূর্ব-নলতা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আছের আলীর (৪২) স্ত্রী।ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামীর দাবি, মূলত কূপ্রস্তাবে সম্মতি না পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত অপকর্মের হোতারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদেরকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মনগড়া অসামাজিক কাজে লিপ্ততার দায় চাপাতে মব সৃষ্টি করে সর্বশেষ তাদেরকে শিশু সন্তানদের নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে।গৃহবধূর স্বামী দিনমজুর আছের আলী জানান, গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সন্ধ্যার পর তিনি স্ত্রী ও শিশু পুত্র মাহিমকে নিয়ে সাইকেল যোগে পাশ্ববর্তী বাজারে যান। এর পর একসাথে দরকারি কেনাকাটা শেষ হতে প্রায় ৮টা বেজে যায়। তারপর তিনি শিশু পুত্রকে স্ত্রীর কাছে রেখে স্ত্রীকে তার এক বন্ধু ওই বাজারের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি আঃ আলিমের দোকানে বসিয়ে রেখে পাশের দোকানে ছেলের জন্য খেলনা ও এরপর খাবার কিনতে যান তিনি। এমনকি ওই সময় তার বন্ধু দোকানে ছিলেননা। এরমধ্যে বাড়ির পাশের কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তার স্ত্রী ও বন্ধুকে জড়িয়ে কথিত অসামাজিক কাজের অভিযোগ তুলে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা মারপিটে উদ্যত হয়। তার দাবি, এর কয়েক বছর পূর্বেও তার স্ত্রীর গোসলের ভিডিও গোপনে মোবাইলে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ায় ভয় দেখিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যার্থ হয়ে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিসিতে সেবারে সুরাহা হয়। সর্বশেষ ওই ঘটনায় স্ত্রীকেই দায়ী করে সেবারের বরাত দিয়ে তিনিই স্ত্রীকে বাজারে নিয়ে গেলেও তার চোখের আড়াল হতেই ২/৩ মিনিটের ব্যবধানে স্থানীয় সেই প্রভাবশালী মহলটি পরিকল্পিতভাবে নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে। তবে স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দরা সহ স্থানীয় বিচক্ষণ ব্যক্তিবর্গ বিষটি আঁচ করতে পেরে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।এতে তাৎক্ষণিক ওই প্রভাবশালীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যার্থ হলেও তারা তাতে ক্ষান্ত না হয়ে বরং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কথিত অসামাজিক কাজে জড়িতের অভিযোগ তুলে পুনরায় ৮/১০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বসতবাড়িতে হাজির হয়ে ভাঙচুর চালায় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এমনকি রাতের মধ্যে স্বপরিবারে বাড়ি ছেড়ে না চলে গেলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে বাড়ির কল ও মোটর উপড়ে নিয়ে যায়। সর্বশেষ প্রাণে বাঁচতে ও লোকলজ্বায় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তবে বিশেষ ওই মহলটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী, বিপরীতে তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী আর সরল সহজ প্রকৃতির হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে প্রশাসনের দারস্থ হতে সাহস পাননি। সর্বশেষ ঘরে ফিরতে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ঠদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।ভুক্তভোগী গৃহবধূর দাবি, পরিকল্পিতভাবে মনগড়া অভিযোগ তুলে তাদেরকে স্বপরিবারে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মূলত এই মনগড়া নাটকীয়তা তিনি কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরেই। বিয়ের পর থেকে বাড়ির পাশের প্রভাবশালীদের কয়েকজন তাকে কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। যা তিনি তার স্বামীকেও জানিয়েছেন। পূর্বেও তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে তারা উদ্দেশ্য হাসিলে অপচেষ্টা চালায়। তবে সেবারেও ব্যার্থ হয়ে সর্বশেষ ব্যাতীক্রমী কৌশলে তাদের স্বপরিবারে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। মূলত কূপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরেই তাদেরকে বাড়ি ছাড়া হতে হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী এ দু’ সন্তানের জননী।ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আঃ আলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া দাবি করে বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর তার বন্ধু আছের আলী যখন শিশু পুত্রসহ স্ত্রীকে তার ওয়েল্ডিং এর দোকানে বসিয়ে রেখে পাশের দোকানে যান তখন তিনি নিজেই তার প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেননা। কর্মচারীদের হাল্কা খাবার কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে দোকানে আসতেই ৭/৮ জন সংঘবদ্ধভাবে উপস্থিত হয়ে বন্ধুর স্ত্রীকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে গালিগালাজ করতে থাকলে তাৎক্ষণিক তার বন্ধু সেখানে উপস্থিত হয়। এরমধ্যে বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্ধ সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সকলকে চলে যেতে বলেন। তার দাবি, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মূলত তার দীর্ঘ দিনের সুনাম ক্ষুন্ন করে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে তাকে পুঁজি করা হচ্ছে। আর ওই দিন প্রকাশ্যে এমন কোন ঘটনা ঘটলে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? আর আলসেই ওমন কিছু ঘটে থাকলে বাজার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা তাদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলেও অন্তত একটা মুচলেকা নিতেন। তবে কেন তারও প্রয়োজন পড়লোনা এসবের কারণ জানতে চান। সর্বশেষ তিনিও সম্মান রক্ষায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই এম এ সালাম জানান, গত ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে একই উপজেলাধীন পাশ্ববর্তী ইউনিয়নে তার ছোট বোনের বিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনে তাদের ঘর আলোকিত করে একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান জন্মনেয়। ভগ্নিপতি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী হওয়ায় শুরুতে তাদের সংসারে নানা অনটন থাকলেও সুখের ঘাটতি ছিলনা। তবে শুরু থেকেই বোনের বাড়ির আশপাশের কয়েকজন প্রভাবশালীর তার উপর কুনজর পড়ে। একপর্যায়ে তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাবও দেয়। যা সে তার স্বামী একপর্যায়ে আমাদেরকেও জানায়।একপর্যায়ে প্রভাবশালী ওই কুচক্রীমহল গোপনে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ধারন করে, যা শেষপর্যায়ে স্থানীয় সালিসিতে মিমাংসা হয়। তারপর কেটে গেছে কয়েক বছর। তবে বিশেষ ওই মহলটি থেমে থাকেনি, সর্বশেষ গত বুধবার ভগ্নিপতির সাথে বোন ও ভাগ্নে বাজারে গেলে বিশেষ ওই মহলটি পুনরায় নতুন নাটকীয়তার আশ্রয়ে স্থানীয় বাজারে একটি পরিকল্পিত অভিযোগ তুলে গোলযোগের সৃষ্টি করে। তবে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সেখানে তারা জোর না খাটাতে পেরে পরবর্তীতে ওই রাতেই তাদের বাড়িতে গিয়ে ৭/৮ জনের একটি সংঘবন্ধ চক্র ভগ্নিপতির বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দু’ শিশু সন্তানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে।মূলত তিনি জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন সংগত কারণে পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনায় প্রশাসনের দারস্থ হবেন বিধায় স্থানীয়দের থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত মোবাইলে জানতে চান। সর্বশেষ সে ব্যাপারে প্রভাবশালী ওই বিশেষ মহল জানতে পেরে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিককে ভুল, মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে ভুল বানানের শিরোনামে স্থানীয় একটি পত্রিকায় খবর প্রকাশ করান, যা আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে।সর্বশেষ এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া তার বোন ভগ্নিপতি অত্যন্ত সহজ সরল প্রকৃতির ও প্রভাবশালীদের প্রাণনাশের হুমকির মুখে দু শিশু সন্তানদের নিয়ে ঘর ছাড়লেও প্রশাসনের দারস্থ হওয়ার সাহস পাননি। সর্বশেষ এ ঘটনায় সঠিক বিচার পেতে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

