কামাল উদ্দিন টগর, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-
সৎ পথে থেকেও সদ ইচ্ছা থাকলে ছোট খাটো ব্যবসা করে ও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ইসরাফিল তার চলো জ্যান্ত প্রমাণ। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার প্রাণকেন্দ্র উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে সমজিদ ও উপজেলা ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশ্বে রাস্তার সামনে ছোট একটি দোকান নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে চিনির ঝিলাপি বানাতে শুরু করেন ইসরাফিলের বাবা আব্দুল ঘফুর খাঁ। বাবাকে সহতযোগিতা করার জন্য মাঝে মধ্যে দোকানে এসে বসতেন ছেলে মোঃ ইসরাফিল আলম (১৭) হঠাৎ একদিন ইসরাফিলের বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন দোকানে এসে জিলাপি বানানো সম্ভব হয় না তার বাবার সেখান থেকেই জিলাপি বানানোর হাতে খড়ি শুরু হয় ইসরাফিলের। নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ইসরাফিল আলমের বাড়ি,জন্ম আত্রাই উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ভালো স্কুলে পড়াশুনা করে সরকারি চাকরি করবে। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে তার। ইসরাফিল আলম বলেন,২০-২৫ বছর আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে বাবার রেখে যাওয়া এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। আমার বয়স যখন ১৭ বছর তখন আমি বাবাকে সহতযোগিতা করতাম। একটা সময় বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আর কাজ করতে পারতেন না। তাই আমাকে সংসারের হাল ধরতে বাবার ব্যবসার চালিয়ে যেতে হয় । প্রতিদিন সকালে আমি বাজারে গিয়ে তেল, ময়দা,চিনি কিনে দুপুর তিনটার পর থেকে জিলাপি বানানো শুরু করি আর রাত দশটার পযন্ত অবিরাম গতিতে চলতে থাকে। প্রতিদিন আমার চার-পাঁচ হাজার টাকার অধিক বেচাকেনা হয়। কমচারী ও অন্যান্য সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২ শত টাকা থাকে। বাড়িতে আমার মা, ছোট ভাই-বোন ও আমার স্ত্রী সহ ২সন্তান ১ মেয়ে নিয়ে থাকি। মায়ের চিকিৎসার খরচ তো আছেই। আমার সংসার চালানো থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল খরচ এই ব্যবসার আয় দিয়ে চলে যায়। ছোট ভাইকে চার লাখ টাকা ও আমার বড় সন্তানকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছি এই দোকান করেই।
আমার বেশি ভাগ কাষ্টমার সরকারী অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা, স্কুল- কলেজ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সবাই আমার দোকানের জিলাপি খায়। কাষ্টমার ধরে রাখতে জিলাপির মান ভালো করার চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত।
একা এতো কাজ করতে পারি না তাই দুই/তিনজন কর্মচারী থাকে সব সময়। প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড়-থেকে দুই মন জিলাপির অর্ডার থাকে। আমার থেকে কাজ শিথে আমার কমচারীরা আশেপাশে জিলাপির দোকান দিয়েছে, তারা সবাই তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো আছেন।
আমি তিন ধরনের জিলাপি তৈরি করি, রেশমি জিলাপি ৩০০ শত টাকা কেজি, মোম্বাই জিলাপি ২০০ শত টাকা ও সাধারন জিলাপি ১৮০ টাকা করে কেজি বিক্রি করি।
পরিশেষে আমি সবার উদ্দেশ্যে একটি কথা বলতে চাই, আমরা যারা অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত তারা বড় চাকরি বড় ব্যবসা না খুঁজে আমার মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়ে চাইলেই জীবনটাকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
জিলাপি বিক্রেতা ইসরাফিল এর
দোকানের একজন নিয়োমিত জিলাপি ক্রেতা চাউল ব্যবসায়ী মোঃ মফিজ উদ্দিনের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি তার চিনির জিলাপির মান কেমন। তিনি সাংবাদিককে বলেন,আমি সাহেবগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী আমি তার পাশে অনেকদিন থেকে ব্যবসা করি। তার চিনির জিলাপি খেতে আসি এবং পরিবারের জন্য বাসায় নিয়ে যাই।আজও পর্যন্ত কখনো কোন ধরনের খারাপ জিলাপি পাইনি তার দোকানে।
প্রতিবেদনঃ- কামাল উদ্দিন টগর
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
ক্যামেরায়ঃ- শাহরিয়ার আহমেদ সাদিক।

