বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তাঁর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৃথক পৃথক বিবৃতিতে তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। যুক্তরাষ্ট্র এক শোকবার্তায় জানায়, বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস নির্মাণে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বলেছে, তাঁর নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অগ্রগতিতে প্রভাব রেখেছে। এই শোকের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও তার জনগণের পাশে রয়েছে। রাশিয়াও শোক প্রকাশ করে জানায়, তিনবার সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেগম খালেদা জিয়া রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঢাকায় রুশ দূতাবাস জানায়, দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তাঁর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক বার্তায় বলেন, চীনের জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোকবার্তায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি। মোদি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোকাহত। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তাঁর আজীবন অবদান একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাকিস্তানের জনগণ এই শোকের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও শোক প্রকাশ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দেশসেবার স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে। ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দু’বার জাপান সফর করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিসর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা ২০০৪ ও ২০১১ সালে জার্মান শীর্ষ নেতাদের ঢাকা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে হওয়া সাক্ষাৎগুলোর কথাও স্মরণ করে। জার্মানি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।ফ্রান্সের দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জীবন ও রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন। এই শোকের সময়ে তারা তাঁর পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার কথা জানায়।অস্ট্রেলিয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তারা আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নও শোক জানিয়ে বলেছে, এই দুঃসময়ে তারা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। সংস্থাটি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।আঞ্চলিক জোট বিমসটেকও শোকবার্তায় জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছে।

