আওরঙ্গজেব কামালঃ দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন পালিত হচ্ছে।গতকাল বুধবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলবে আগামীকাল শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এ উপলক্ষে আজ সারাদেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন এবং বুধবার সাধারণ ছুটির কথাও জানান।রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও বিরল সম্মানে শেষ বিদায় জানানো হয় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন কার্যক্রমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়াত এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।দাফনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় তাঁর জানাজা। এতে লাখো মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মানুষ শেষ বিদায় জানান দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক নেত্রীকে। অনেকের মতে, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজাগুলোর একটি।বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।ঐতিহাসিক এই জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনৈতিকরাও উপস্থিত থেকে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

