বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন রূপনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা নড়াইল চরের ঘাটে থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকা সহ তিনজন গ্রেপ্তার শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে : রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম-খুনের নির্দেশদাতা : স্পিকার আশুলিয়ায় চাঁদার দাবিতে সাংবাদিকের উপর হামলা , হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার
Headline
Wellcome to our website...
একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
/ ২ সময় দেখুন
আপডেট : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। অনুমোদিত ১২ প্রকল্পের মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত। প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
একনেকের অনুমোদন পাওয়া বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল করিডোর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে ভূগর্ভস্থ। প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সভায় এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়াল শাখাসহ ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ২০১৯ সালের অনুমোদিত ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। সংশোধিত হিসাবে সরকারের অনুদান হবে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরির সময় কয়েকটি স্টেশনের আকার বৃদ্ধি, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং ভেন্টিলেশন শ্যাফটের অবস্থান পরিবর্তন, রাজারবাগে তিনতলা স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণকাজ চলাকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ২০ কিলোমিটার ডিটুর রোড যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুট হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ প্রকল্পের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। সংশোধিত প্রকল্পে সরকারের অনুদান হবে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। হেমায়েতপুর-আমিনবাজার অংশ উড়ালপথে এবং আমিনবাজার-ভাটারা অংশ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ পথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়িয়ে ২০৩২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন এবং ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন-২য় পর্যায় এবং ৩৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটের বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রকল্পটি দেশের রেল যোগাযোগে বিদ্যুতায়নের উদ্যোগের অংশ।
এছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ২৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫২ কোটি ৮১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ, ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, দেশি মুরগির গবেষণা ও সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন এবং বিভিন্ন সামরিক ও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
একনেকের এ সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.