বিশেষ প্রতিনিধি :
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু ও ২৬ জনের গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।
গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার সীমানার ভেতরে একটি বিশেষভাবে তৈরি লরিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে।
তবে বিস্ফোরণটি সিলিন্ডার, নাকি বয়লার থেকে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন আহত হন। তিনি দগ্ধ ও গুরুতর আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এছাড়া পাশের সড়কে থাকা একজন রিকশাচালক সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
বিস্ফোরণের সময় বয়লার বা পাইপের ধাতব অংশ এবং গ্যাস সিলিন্ডার ছিটকে আশপাশের বাড়ি ও সড়কে পড়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
চিএাশাইল শাপলা বিল্ডিং সংলগ্ন আমানুল্লাহ খান এর বাড়িতে কারখানাটির সিলিন্ডার ভূপতিত হয় ফলে ওতো টিনশেড বাড়ির কিছু কামরা বেশ ভালোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভবনের ভেতরে থাকা শরিফ খান এবং তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।
তবে পাইপাইল সড়কে যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
এদিকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে কয়েকজন আহত ও দগ্ধ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, এ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক দগ্ধ হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রীতি গ্রুপের এফঅ্যান্ডএফ কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন জানান, কারখানার সীমানা প্রাচীরের এক পাশে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তারা ধারণা করছেন। তবে কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকা পড়েননি বলে তিনি জানান।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আগুনের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে কারখানার সব অংশে প্রবেশ করতে পারছেন না।
পরিস্থিতি পুরোপুরি পর্যালোচনা করার পর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানানো হবে।

