ডেস্ক রিপোর্ট : প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধের গোলশূন্য ভেঙে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মিলল কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। আর তাতেই ইতিহাস গড়ে ফেলল সহ-আয়োজক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) গুয়াদালাহারার ঘরের মাঠে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে লা ট্রি-রা। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ ও গোলকিপারের মারাত্মক সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে মেক্সিকোর হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন লুইস রোমো। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বের বৈতরণি পার হলো স্বাগতিকরা।ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সুযোগ হাতছাড়ার মহড়া দিলেও, দ্বিতীয়ার্ধের ঠিক ৫০ মিনিটের মাথায় গুয়াদালাহারার গ্যালারিকে উল্লাসে মাতান লুইস রোমো। গোলটি অবশ্য উপহার হিসেবেই পেয়েছে মেক্সিকো। লাল-সবুজদের একটি আক্রমণাত্মক ক্রস ঠেকাতে বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং-গিউ।কিন্তু বলের নাগাল পাওয়ার আগেই তিনি নিজের এক ডিফেন্ডারের সাথে মারাত্মকভাবে ধাক্কা খান এবং বলটি হাত থেকে ফেলে দেন। ফাঁকায় বল পেয়ে মেক্সিকান মিডফিল্ডার লুইস রোমো একটুও ভুল করেননি; নিখুঁত ও জোরালো এক ভলিতে বল ফাঁকা জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।ম্যাচের শেষভাগে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকোও। ৭৫তম মিনিটে কঠিন কোণ থেকে রাউল জিমেনেজের নেওয়া একটি শট এবং শেষদিকে বদলি খেলোয়াড় ওবেদ ভার্গাসের দূরপাল্লার বুলেট গতির শট দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম।টানা দুই জয়ে শতভাগ সাফল্য বজায় রেখে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় মেক্সিকোর নকআউট পর্বের রাস্তা বেশ সহজ হলো। এখন মেক্সিকো সিটিতেই তারা খেলবে শেষ ৩২ এবং সম্ভাব্য শেষ ১৬-র ম্যাচ দুটি। সমীকরণ বলছে, টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড যদি নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম নকআউট ম্যাচ জিততে পারে, তবে শেষ ১৬-তে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে পারে তারা।এদিকে এই হারের পরও টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ভালো সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে। উদ্বোধনী ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তারা। আগামী বৃহস্পতিবার মন্তেরিতে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সময়ে মেক্সিকো সিটিতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ফুরফুরে মেক্সিকো।

