বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবন কারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড। সিংগাইরে ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, ৪ দিনব্যাপী আয়োজন পটুয়াখালীর দুমকিতে গাড়ি চাপায় নিহত-১ টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২শ’ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ভোলাহাট প্রেসক্লাব–পরিবারের বনভোজন আয়োজনের প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত। জনকল্যাণ কর্মসূচির বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বৈশাখে মাতলো সারাদেশ, আনন্দোৎসবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
Headline
Wellcome to our website...
ঠাকুরগাঁওয়ে সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ঠাকুরগাঁওয়ে ওরাঁও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব
/ ৬৭ সময় দেখুন
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:১৮ অপরাহ্ন

মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ হাজারো বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো ওরাঁও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব। আদিবাসী ওরাঁওদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব এটি। ফসলের ভালো ফলন, পরিবার-পরিজনের সুস্বাস্থ্য এবং সমাজের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় প্রতি বছর ভাদ্র মাসে এই উৎসব পালন করা হয়।বুধবার সন্ধ্যা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা, রুহিয়া, বালিয়াডাঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থানে এবারও ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন হয়। স্থানীয় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও লোকসঙ্গীত পরিবেশনা। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই অংশ নেন আনন্দ-উৎসবে।
কারাম উৎসবকে ঘিরে দিনকয়েক আগেই ওরাঁও পল্লিগুলোতে প্রস্তুতি শুরু হয়। কিশোর-কিশোরীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দলে দলে গান ও নাচের মহড়া দেয়। ঘরে ঘরে চলে খাবার তৈরির আয়োজন। বিশেষত চালভিত্তিক খাবার এবং নানা রকমের লোকজ খাদ্য উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ।উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কারাম গাছের ডাল। বিশ্বাস করা হয়, কারাম গাছ শক্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। উৎসবের দিন যুবকরা বন থেকে কারাম গাছের শাখা নিয়ে আসে। গ্রামের প্রবীণ ও পুরোহিতরা বিশেষ মন্ত্রপাঠ ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাখাটি পূজা করেন। এরপর সেটি গ্রামের মাঝখানে পুঁতে দেওয়া হয় এবং ঘিরে শুরু হয় সারারাত নাচগান।মেয়েরা কণ্ঠে তুলেন ঐতিহ্যবাহী কারাম গান—যার মূল সুরে থাকে দুঃখ-কষ্ট ভুলে সুখ-শান্তির প্রার্থনা। ছেলেরা ঢোল, মাদল, করতাল, শিঙ্গা বাজিয়ে সঙ্গত দেন। রাতভর চলে তাল-লয়ের মেলবন্ধন। এতে শুধু ওরাঁও নয়, পার্শ্ববর্তী সাঁওতাল, মুন্ডা, মাহাতোসহ অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও যোগ দেন।উৎসবের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোররাতে বা পরদিন সকালে পূজিত কারাম গাছের ডাল দল বেঁধে গিয়ে নদী বা পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই আচারকে বলা হয় কারাম বিসর্জন। বিশ্বাস করা হয়, গাছের সঙ্গে গ্রামের দুঃখ-দুর্দশা দূরে চলে যায় এবং নতুন বছরে ঘরে ঘরে আসে সুখ-সমৃদ্ধি।কারাম উৎসবকে ঘিরে একদিকে যেমন ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িত, অন্যদিকে তেমনি এটি সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। পরিবার থেকে শুরু করে পুরো গ্রামজুড়ে সবাই মিলে অংশ নেওয়া সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি করে।স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছরই উৎসবে যোগ দেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি বহুসংস্কৃতির বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করে। পর্যটন উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও কারাম উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.