বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
জেলা পর্যায়ের কর্মসূচি
ভোলা: জেলা যুবদলের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
রাজবাড়ী: জেলা আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুলের নেতৃত্বে কার্যালয় থেকে র্যালি বের হয়ে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বরে সমাবেশে পরিণত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
বান্দরবান: ঈদগা ময়দান থেকে শুরু হওয়া র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবু সাইদ মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়, পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
কুড়িগ্রাম: জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হওয়া আনন্দ মিছিলে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
গাজীপুর: দুপুর থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মিছিলসহ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন।
ঠাকুরগাঁও: জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত হাজারো নেতাকর্মী দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বগুড়া: সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিকেলে আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল উত্তর জেলা: এক বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
পঞ্চগড়: জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে র্যালি শুরু হয়ে তেঁতুলিয়া এশিয়ান হাইওয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
ফরিদপুর: সিভিল সার্জন অফিসের সামনে থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলীপুর গোরস্তান মোড়ে শেষ হয়। জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন এতে নেতৃত্ব দেন।
কুমিল্লা: উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পৃথক র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেন।
সংগঠনের পটভূমি ও নেতৃত্ব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। প্রতিষ্ঠাকালে আহ্বায়ক ছিলেন আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাইফুর রহমান।১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে মির্জা আব্বাস সভাপতি ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৩ সালের কাউন্সিলেও তারা পুনর্নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে ২০০২ সালে বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতি ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১০ সালে আলাল সভাপতি ও সাইফুল আলম নীরব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল ইসলাম নয়ন। এর আগে ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভাপতি ও মুন্না সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংগ্রাম ও অঙ্গীকার
দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মামলা ও দমননীতির মুখেও যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন বলে সংগঠনটির মিডিয়া সেল জানিয়েছে।
নেতারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

