নারায়ণগঞ্জে সম্প্রতি পিবিআই তৎপরতায় দীর্ঘ ৮ বছর পালিয়ে থাকার পরও শেষ রক্ষা হয়নি নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর স্কুলের ছাত্রী অপহরণকারীর মূল হোতা আল আমিন সরদারের।
জানা গেছে গত জুন’২০১৭ মো: আল আমিন (২৮)। পিতা, মৃতঃ আবুল খায়ের সরদার জাজিরা ফরিদপুর। নারায়ণগঞ্জে অবস্থানকালীন মেয়ে মোসাম্মৎ রেহানা (ছদ্মনাম) পিতাঃ রুহুল আমিন, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর স্কুলে আসাযাওয়া কালীন উত্যক্ত করত এবং নানান আপত্তিকর কু প্রস্তাব দিতো। এ ব্যাপারে মেয়ে পক্ষ ছেলের গার্জিয়ানের মামা, রানা মিয়া (৩২) জানালে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরই জের ধরে গত ২৬/০৪/২০১৭ মোঃ আল আমিন তার দলবল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রেহানাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।
পরবর্তীতে এই অপহরণ ঘটনা নিয়ে মেয়ের গার্জিয়ান নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলা -৭৭ তাং ২০/৪/২০১৭ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধনী-২০০০ দায়ের করেন।
তারপর এ মামলা নিয়ে থানা পুলিশ ও আদালতে দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সুরাহা না পেয়ে বাবা, রুহুল আমিনের আর্জিতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পুনঃ তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ কে দায়িত্ব দেন।
দায়িত্ব পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক (পিবিআই) আব্দুল বাতেন মিয়া প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য কিছুদিন গোপনে তদন্ত কার্যক্রম চালান এবং সম্যখ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে আসামি গ্রেফতারের কার্যক্রম শুরু করেন কিন্তু এজাহার নামীয় ৬ আসামির সবাই-ই পলাতক ছিল এবং কেউই একই স্থানে বেশিদিন অবস্থান করত না এজন্য আসামি গ্রেফতারে তাকে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, প্রথমে মূল আসামীকে গ্রেফতারের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তার আইডি দিয়ে উঠানো সর্বশেষ নতুন মোবাইল নাম্বারটি বের করা হয় এবং দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে নারায়ণগঞ্জের ২০১৭ সালের চাঞ্চল্যকর এই স্কুল ছাত্রী অপহরণের মূল আসামি আল আমিনকে পিবিআই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

