মোঃ রাজিবুল ইসলাম :
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা যেন দলীয় আচরণ বা পক্ষপাত মূলক মনোভাব না দেখাতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোন কর্মকর্তা দলীয় আচরণ করতে পারবেন না, সেটা আমরা কঠোর ভাবে নিশ্চিত করব। কেউ যদি মনের মধ্যে রাজনৈতিক অভিলাষ ও রাখেন, সেটার প্রতিফলন কাজের মধ্যে কোন ভাবেই ঘটতে দেওয়া হবে না।যদি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেউ কোন রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় সিইসি বলেন,অতীতে এমন একটা সংস্কৃতি ছিল যে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর প্রচন্ড চাপ থাকতো একটি নির্দিষ্ট পক্ষে তাদের কাজ করতে হতো। এখন সেই পরিবেশ আর থাকবে না। আগে মেসেজ ছিল, আমার পক্ষে কাজ না করলে তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন মেসেজ হবে-তুমি যদি কোনো পক্ষের হয়ে কাজ কর, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন মেসেজটা একদম স্পষ্ট। আমরা এ কথা একাধিকবার বলেছি এবং বারবার বলবো।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা কোন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা নয়। এজন্য মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ওপর কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব কাজ করবে না, এটা নিশ্চিত করা হবে। আগে অনেক সময় কর্মকর্তাদের রাতে গিয়ে প্রভাবিত করা হতো, ভয় দেখানো হতো, কিংবা নানা উপায়ে প্ররোচিত করে ভোট আদায় করা হতো। কিন্তু এখন সেই ভয় আর থাকবে না এবং তার সুযোগও কাউকে দেয়া হবে না। আমরা যত রকম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব, সব নেব, যাতে কেউ দলীয় আচরণ করতে না পারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা চাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হোক এবং এই নির্বাচন ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের দেশের মানুষ দেখুক, এবার নির্বাচন সত্যিই স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণ মূলক হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যই হলো,কাঁচের মতো স্বচ্ছ একটি নির্বাচন উপহার দেওয়া।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ১০ জন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, যারা সবাই সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। একদিকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ধরনের সরকারের অধীনে আমাদের নির্বাচনে যেতে হচ্ছে যা কিনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এই নির্বাচনকে আমি জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছি। এ দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমাদের আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের একটাই লক্ষ্য-একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া ছাড়া। তবে এটি নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সর্বস্তরের জনগণ, গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ-সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন,আপনারা যারা আজ উপস্থিত আছেন, সবাই দক্ষ ও অভিজ্ঞ সম্পূর্ণ নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন। আপনারা জানেন কোথায় কোথায় গ্যাপ থেকে যায়, কোথায় দিয়ে কারচুপি বা ম্যানিপুলেশন হতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা আমাদের পরামর্শ দিন, যেন আমরা আগে ভাগে ব্যবস্থা নিতে পারি কোথাও কোন ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে পারি। নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’
আজকের এই সংলাপে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন বিকেলে নারী নেত্রীদের সঙ্গে আরেক দফা মত বিনিময় সভা করেছে। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার দেশের প্রধান প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসে নির্বাচন কমিশন।

