নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ডেকে নিয়ে এক সেনাবাহিনীর সদস্যকে বেঁধে মারধর করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করে রাখে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মাহমুদ হাসান (৪০), যিনি সেনাবাহিনীর সদস্য, তাকে ফাঁদে ফেলে ডেকে নেয় কিশোর গ্যাং।
স্থানীয় গোলমুন্ডা বাজার এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে হেলালের নেতৃত্বে প্রায় ২৫-২৬ জনের একটি দল পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তাকে নিয়ে গিয়ে জালের রশি দিয়ে বেঁধে দুই ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারধর করে।খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদ হাসানকে উদ্ধার করে। এ সময় কিশোর গ্যাং পালিয়ে যায়, তবে চারজন সদস্যকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নীলফামারী থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে আটক চারজনকে উদ্ধার করে জলঢাকা থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে।আটককৃতরা হলেন — হেলাল হোসেন, মেহেদী হাসান, সিহাব এবং রাকিব। এ বিষয়ে জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সজ্জাদ হোসেন বলেন, “এখনও কোনো মামলা হয়নি। চারজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।আহত সেনা সদস্যের ছোট ভাই সাজ্জাদ হোসেন জানান, “ঢাকায় কর্মরত মাহমুদ হাসান তিন দিনের ছুটিতে গত সোমবার বাড়িতে আসেন। দুই সন্তানের জনক তিনি। কিশোর গ্যাং একটি ফেক আইডির মাধ্যমে কৌশলে তাকে ডেকে নেয় এবং অর্থ দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়।প্রথমে মাহমুদ হাসানকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর সিএমইএইচ (CMH) হাসপাতালে পাঠানো হয়।তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাংটি সরকারি জায়গা দখল করে একটি অফিস গড়ে তোলে এবং সেখানে বসে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এদের দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ ঘটনায় পরে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

