শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো কাতারকে ৬ গোলে উড়িয়ে কানাডার জয় বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় সুইজারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে দূরন্ত সূচনা করেছে ইংল্যান্ড জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিওনেল মেসির ৩-০ গোলেই জিতল আর্জেন্টিনা
Headline
Wellcome to our website...
একজন নাগরিক হিসেবে এই বাংলাদেশে আপনার যতটুকু অধিকার আমারও ঠিক ততটুকু অধিকার : তারেক রহমান
/ ১০৪ সময় দেখুন
আপডেট : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ অপরাহ্ন

বিমেষ প্রতিনিধি : একজন নাগরিক হিসেবে এই বাংলাদেশে আপনার যতটুকু অধিকার আমারও ঠিক ততটুকু অধিকার বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান । এ সময় তিনি নির্বাচন নিয়ে সরকারকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আয়োজনে ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ধরনের কথা বলেন। তিনি বরেন,আপনাদের বক্তব্য শুনতে শুনতে আমার উপলব্ধিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেটি হলো ‘ধর্মীয় বিশ্বাস’ প্রতিটি ধর্মেই নিজেদের মধ্যে একটি ‘ঐক্যসূত্র’ হিসেবে কাজ করলেও নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি-বিধান জানা-মানা-বোঝার ক্ষেত্রে গোত্র-গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় একইভাবে ব্যক্তি পরিবার এবং সমাজ জীবনে ধর্মীয় বিধি-বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায়। অর্থাৎ একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও বৈচিত্র্য এবং ভিন্নতা রয়েছে।আমাদের এই দেশে নানা ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠি, সম্প্রদায় জাতি-উপজাতি অধিবাসীদের অধিষ্ঠান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টের কারণে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আচার অনুষ্ঠানে ভিন্নতা এবং বৈচিত্র্য রয়েছে। এই বৈচিত্র্যতার মধ্যে ঐক্যের বন্ধনই আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজের সাংস্কৃতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক সৌন্দর্য্য। তবে এই বৈচিত্র্যময় সমাজে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে কিন্তু একটি ‘ঐক্যসূত্র’ রয়েছে। কি সেই ‘ঐক্যসূত্র’? সেই ‘ঐক্যসূত্র’ হচ্ছে- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। অর্থাৎ আমরা যারা যেই ধর্ম-জাতি-গোষ্ঠীরই প্রতিনিধিত্ব করিনা কেন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার প্রথম এবং প্রধান পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’। একজন বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই বাংলাদেশে আপনার যতটুকু অধিকার আমারও ঠিক ততটুকু অধিকার। এ প্রসঙ্গে দেশের প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি বর্ণের প্রত্যেক নাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি আরো একটি বিষয় বলতে চাই, সেটি হলো, রাষ্ট্র ও সমাজে সম্মান এবং নিরাপত্তার সঙ্গে সগৌরবে চলতে হলে একজনকে নাগরিকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী সমর্থক হওয়া জরুরি নয়। রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। তবে নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের জন্য দেশের সংবিধান এবং আইন মেনে চলা জরুরি। বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়কালে দেশের সবচেয়ে জনসমর্থিত এবং জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও সারাদেশে শুধুমাত্র বিএনপির ৫০ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কমপক্ষে দেড় লক্ষ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম অপহরণ করা হয়েছিল। অকারণে রাতের বেলা আদালত বসিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এর কারণ দেশে আইনের শাসন ছিলোনা। পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে মুসলমান কিংবা হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান ডান কিংবা বাম বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী ভিন্ন দল মতের কেউ নিরাপদ ছিলোনা। ২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা, কিংবা ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলাসহ দেশের কোথাও কোনো একটি হামলারও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হয়নি। বিচার হয়নি। গত দেড় দশকে আমি বিভিন্ন বক্তব্যে দেশের সুশীল সমাজ, সর্বদলীয় এবং সর্বধর্মীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নাগরিক তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাসাবাড়ি কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংঘটিত প্রতিটি হামলার নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন ঘটনার বিচার কিংবা বিশ্বাসযোগ্য তদন্তও হয়নি। মতুয়া সম্প্রদায় তথা হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রিয় ভাই ও বোনেরা এ কারণেই বিএনপি মনে করে দেশে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু আমাদের কারো কোনো পরিচয়ই কোনো নাগরিকের নিরাপত্তার গ্যারান্টি হতে পারেনা। একমাত্র ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনই দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য/গণতন্ত্র-ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশাল সুযোগ অপেক্ষমান। তবে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের রাজপথের আন্দোলনের সঙ্গী কারো কারো ভূমিকা দেশে আপনার আমার অধিকার এবং সুযোগকে বিনষ্ট করার পরিস্থিতি তৈরী করছে। দেশ যদি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে তাহলে পতিত পরাজিত পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসনের পথ সুগম হয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ফ্যাসিবাদের রোষানল থেকে বাঁচতে ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের কেউ কেউ যেই উপায়ে ‘গুপ্ত কৌশল’ অবলম্বন করেছিল পতিত পরাজিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তিও বর্তমানে একইভাবে ‘গুপ্ত কৌশল’ অবলম্বন করে দেশকে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্থ করে তুলছে কিনা সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য আমি অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি বিশেষ আহবান জানাই। ৫ আগষ্টের পতিত পরাজিত পলাতক অপশক্তি কোনো দলের আড়ালে ‘গুপ্ত কৌশলে’ ভূমিকা রেখে যাতে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার সুযোগ না পায় গুপ্তবাহিনীর সেই অপকৌশল থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় এবং বহাল রাখা। এ কারণেই বিএনপি অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সঙ্গীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সমঝোতার দৃষ্টিভঙ্গি সমুন্নত রেখেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বরাবরই একটি শান্তিকামী সহনশীল জনমুখী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। ভিন্নদল ভিন্নমতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা এটি বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। দেশে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার স্বার্থেই বিএনপির রাজনীতি। হুমকি ধামকি কিংবা ভয় ভীতি দেখানোর রাজনীতিতে বিএনপির বিশ্বাস নেই। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয়। এ কারণেই বিএনপি এই সরকারের প্রতি কোনরকম চাপ সৃষ্টির পরিবর্তে ভিন্নমতের জায়গাগুলোতে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’কেই ‘ডিসেন্ট ওয়ে’ বলে মনে করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারী মাসেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা নিয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে বাছাই করে নেবেন। বাংলাদেশকে একটি ‘সম্প্রীতি এবং সমৃদ্ধির’ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি ইতোমধ্যেই দেশের জনগণের সামনে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আপনাদের রায়ে তথা দেশের জনগণের রায়ে বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সরকার থেকে সহযোগিতা করার জন্য অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লক্ষ পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হবে। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের নামে ‘ফার্মার্স কার্ড’ ইস্যু করা হবে। দেশে বিদেশে বেকার তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার সমস্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য একটি ‘সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির’ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আপনার-আপনার পরিবারের সদস্যদের সমর্থন চায়। পরিশেষে আপনাদের প্রতি আহবান…আপনাদের ধর্মীয় পরিচয়কে কেউ যেন নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। নিজেদেরকে সংখ্যালঘু ভাববেন না। একজন বাংলাদেশী হিসেবে এই স্বাধীন বাংলাদেশে আপনার আমার আমাদের সবার সমান অধিকার। ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থ নয় বিএনপির কাছে দেশ এবং জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে অগ্রাধিকার। এজন্যই আমরা বলি ‘আমার আগে আমরা আমাদের আগে দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.