সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র, ৩৬ বছর পর জয়ে ফিরল স্কটল্যান্ড ইউএইতে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ময়মনসিংহে তিনদিন ব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালার উদ্ভোধন অনুষ্ঠিত। চট্টগ্রামের রাউজানের রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা কে প্রকাশ্যে গুলিতে হত্যা। পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না ধর্ষণকারীর অবশেষে গ্রেফতার। ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক ও ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে মত বিনিময় করেন নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। পটুয়াখালী ভার্সিটির, নবনিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ এর অভিনন্দন। মোরগ-খাসির লড়াইয়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। প্যারাগুয়েকে ৪ গোল উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে ইতিহাস
Headline
Wellcome to our website...
অস্থিরতার দিকে দেশ—জবাবদিহির সংকটে রাজনীতি ও নিরাপত্তাহীনতায় জনসাধারণ
/ ৪০ সময় দেখুন
আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:০০ অপরাহ্ন

আওরঙ্গজেব কামাল : দেশ আজ এক চরম অস্থিরতার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে দেশের বিভিন্ন মহল। বিষয়টি আর শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন নয়; সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন কথোপকথনেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একই উদ্বেগ।বাজারে, রাস্তায়, গণপরিবহনে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষের আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে ছিনতাই, রাহাজানি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও খুন-খারাপির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। রাজধানী থেকে মফস্বল—সব জায়গাতেই অপরাধ যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দিনের আলোতে পথচারীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনতাই কিংবা রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ডাকাতির প্রবেশের চেষ্টা—এসব ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে জনমনে। অনেকের অভিযোগ—রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে অপরাধীরা দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। অপরাধীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের মনে জবাবদিহির ভয় নেই, শাস্তির সম্ভাবনাও নগণ্য। এ কারণে সাধারণ মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ নন—এটাই আজকের কঠিন বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং জবাবদিহির সংকটই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশের বড় বড় শহরে প্রতিদিন নতুন অপরাধ সামনে আসছে, আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে। এমন পটভূমিতে সাম্প্রতিক দু’টি হত্যাকাণ্ড জনমনে গভীর আঘাত দিয়েছে—রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালাইলা আফরোজ ও তার কিশোরী কন্যা নাফিসা বিনতে আজিজের নির্মম হত্যা এবং তার আগের দিন রংপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে হত্যা। একটি স্বাধীন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া রাষ্ট্রে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও যদি এভাবে প্রাণ দিতে হয়—তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। এই বছরের প্রথম ১০ মাসেই খুন হয়েছেন ৩,২৩0 জন—গড়ে প্রতিদিন ১১ জন। সবচেয়ে বেশি খুন ঢাকায়—যেখানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকে। তাহলে বাকি অঞ্চলগুলোর অবস্থা কতটা ভয়াবহ—তা সহজেই অনুমেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। অনেকেই মনে করছেন, কিছু পুলিশ সদস্য অতীতের ‘ঘাটতি’ পূরণে যেন আরও বেশি আয়ের ধান্দায় মেতে উঠেছেন। ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণকারী পুলিশের শাস্তি না হওয়া জনআস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। ফলে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই। এ কারণেই আজ শাহবাগে আইজিপি বাহারুল আলমের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে একটি পক্ষ পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চাইছে। রাজনৈতিক ময়দানে তিক্ততা বাড়ছে, সমঝোতা বা সংলাপের পরিবেশ নেই। মতের অমিল গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও সহনশীলতার ঘাটতি রাজনীতিকে সংঘাতমুখী করে তুলছে। দেশে নানান ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলন’ চলছে, যেগুলোর লক্ষ্য বাস্তব সমস্যা সমাধান নয়; বরং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, বিচারহীনতা—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিদেশি মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্য দেশকে আরও অস্থির করছে। জনগণ রাজনৈতিক নাটক বা ফাঁপা প্রতিশ্রুতি আর মানছে না; তারা বাস্তব পরিবর্তন চায়—জবাবদিহি চায়, নিরাপত্তা চায়, স্থিতিশীলতা চায়। বাংলাদেশ আজ এমন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে। রাজনীতি যখন স্বচ্ছতা হারায়, নেতারা দায়িত্ববোধ ভুলে যান, আইনের শাসন ভেঙে পড়ে—গণতন্ত্রও তখন বিপন্ন হয়। ঠিক এমন অবস্থায় আমরা আজ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম কিংবা ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই বিজয়ী হয়েছে জনগণ। সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবে রূপ পায়নি। বরং ভয়, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা নতুন করে ঘিরে ধরছে দেশকে। এখনও সময় আছে। রাজনীতিবিদরা চাইলে সংঘাত থেকে সরে এসে সংলাপের পথে ফিরতে পারেন, প্রশাসন কার্যকর করতে পারেন জবাবদিহিমূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রকে আত্মবিধ্বংসী পথে যেতে দেওয়া যাবে না। সময় সীমিত—কিন্তু এখনো দেরি হয়নি। সামনে এগোতে চাইলে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। অস্থিরতার দিক থেকে দেশ কে রক্ষা করতে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এবং জবাবদিহির সংকট থেকে রাজনীতি কে জনসাধারণের কাছে পৌছে দিতে হবে। এছাড়া জনসাধারণের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে সরকারকে আরো মনোযোগী হতে হবে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা দুঃসাহসী হয়ে উঠছে; অনেকেই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ভয় নেই, accountability নেই, শাস্তির সম্ভাবনাও নেই। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে নেমে গেছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। গত জুলাই- আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা বিধ ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দেশে বিভিন্ন বিষয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত আন্দোলন অব্যহত রয়েছে। একটি পক্ষ জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিদেশী মিডিয়ার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো দেশের জন সাধারন পড়েছে বিপাকে। অন্যদিকে বিভিন্ন তথাকথিত আন্দোলন চলছে যেগুলোর উদ্দেশ্য বাস্তব সমস্যার সমাধান নয়; বরং জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, বিচারহীনতা, সুশাসন—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেন আলোচনা থেকে উধাও। পরিবর্তে তৈরি করা হচ্ছে উত্তেজনা, বিভ্রান্তি এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ। জনগণ এখন আর রাজনৈতিক নাটক ও ফাঁপা প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে না। তারা ফলাফল চায়—বাস্তব পরিবর্তন চায়। গণতন্ত্রের মোড় বদলের ঝুঁকি মনে হচ্ছে আরো বহুগুন বেড়ে গেছে। আজ বাংলাদেশ এমন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে। রাজনীতি যখন স্বচ্ছতা হারায়, নেতারা যখন দায়িত্ববোধ ভুলে যান, যখন আইনের শাসন ভেঙে পড়ে—তখন গণতন্ত্র নিজেই বিপন্ন হয়ে পড়ে। আমি মনে করি রাজনীতিকদের এখনো সময় আছে। দেশের সার্থে সমজোতার প্রয়োজন। আপনারা চাইলে সংঘাত থেকে ফিরে এসে সংলাপের পথে হাঁটতে পারেন, জনগণকে কেন্দ্র করে রাজনীতি সাজাতে পারেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনারা এই বাস্তবতা না বোঝেন—তাহলে ক্ষমতার লড়াইয়েই দেশ ডুবে যাবে, আর জনগণ হারাবে তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ। এই দেশ বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্ত সেটা কতটুকু বাস্তবে রুপদান করা গেছে সেটা অবশ্যই সকলে জানেন। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতার এক ব্যাপক ও তীব্র আন্দোলন, যা তীব্র গণবিক্ষোভের মাধ্যমে ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগে বাধ্য করে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতার ভয়ে শেখ হাসিনা পালিয়েছে। নতুন একটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এদেশের জনসাধারন। কিন্ত নেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ভয়ঙ্কর হয়ে দাবড়িয়ে বেরাচ্ছে। এত প্রণের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ। সেই রাষ্ট্রের রাজনীতি যদি আবারো আত্মবিধ্বংসী পথে হাঁটে, তাহলে আমাদের অর্জন ধুলায় মিশে যাবে। এই সংকট শুধু সরকারের নয়—এটি পুরো জাতির সংকট। রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে এখনই দায়িত্বশীল হতে হবে। নইলে সামনের দিনগুলো আরও অন্ধকার, আরও অনিশ্চিত।বাংলাদেশ বহু সংগ্রাম ও ত্যাগের জাতি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিবারই জনগণ বিজয়ী হয়েছে।জুলাইয়ের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানও দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন জাগিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তব রূপ পাচ্ছে না। বরং নতুন ভয়, নতুন অস্থিরতা, নতুন অন্ধকার জনগণকে ঘিরে ধরেছে।একটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন পুরো রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ঠেলে দিতে পারে—এটাই আজকের কঠিন বাস্তবতা।রাজনীতি যখন স্বচ্ছতা হারায়, যখন নেতারা দায়িত্ববোধ ভুলে যান, যখন আইনের শাসন ভেঙে পড়ে—তখন গণতন্ত্র নিজেই বিপন্ন হয়ে পড়ে। আজ আমরা যেন সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি।বাংলাদেশ বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। এই রাষ্ট্রকে আত্মবিধ্বংসী পথে যেতে দেওয়া যাবে না।সময়সীমা খুব অল্প—কিন্তু এখনো দেরি হয়নি। সামনে এগোতে চাইলে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।
লেখক ও গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.