আওরঙ্গজেব কামাল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার সকাল ১১টার কিছু পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির কবরে উপস্থিত হন। কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতিহা পাঠ করেন। এ সময় তিনি জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যেই তিনি ওই সময় বের হন। আজ তিনি আগের দিনের মতো লাল-সবুজ রঙের বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি ফুলে সাজানো গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যান।তার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। টিএসসি থেকে কবরস্থান পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয় এবং শাহবাগ সংলগ্ন এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ করা যায়। রাস্তার দুপাশে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা যায়।
এদিকে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমবেত হন। কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্বাচন ভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে আহত কোনো ব্যক্তি বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় দেশজুড়ে থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় উপস্থিতি দেখা যায়। এ থেকে প্রমানিত হয় বিএনপি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। হয়তো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রমান রাখবে।

