বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন [gtranslate]
শিরোনাম
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের আশুলিয়ায় হিন্দু পরিবার কর্তৃক চুরির অপবাদ দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ। যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ঢাকার সাভারে নৃশংসভাবে ছেলের হাতে বাবা মহিন মিয়া (৩৮) খু’ন ময়মনসিংহে স্কুল পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন। চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Headline
Wellcome to our website...
চরম অস্থিরতার রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সু-বাতাস
/ ১৮০ সময় দেখুন
আপডেট : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৯ অপরাহ্ন

আওরঙ্গজেব কামাল : দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসে জর্জরিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্প্রতি কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত লক্ষ করা যাচ্ছে। সংঘাতনির্ভর ও মুখোমুখি অবস্থানের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার যে আভাস মিলছে, তা গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। চরম অস্থিরতার মধ্যেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে ‘সু-বাতাস’ বইতে শুরু করেছে, তা ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের দৃশ্যমান রূপান্তর শুরু হয়েছে। দলীয় পুনর্গঠন, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির মাধ্যমে বিএনপি আবারও মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে এনসিপির সংশ্লিষ্টতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের আলোচনা দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দল ও ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন—যা রাজনীতির গতিপ্রকৃতিতে ভিন্নমাত্রার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব ঘটনা মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের পুনর্বিন্যাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে।গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচনকেন্দ্রিক আস্থাহীনতা, বিরোধী দল দমনের অভিযোগ, একতরফা নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর।তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে, তা ভিন্ন বাস্তবতার বার্তা দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, নির্বাচনী মাঠ গোছানোর প্রস্তুতি, সংলাপ ও সমঝোতার আলোচনা এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গঠনের দাবি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিতে এক ধরনের ইতিবাচক গতি লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজপথের উত্তেজনা ও সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধানে ফেরার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য নিঃসন্দেহে শুভ লক্ষণ।বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি এখন আর শুধু বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী মহল এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা, সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ইস্যুতে প্রকাশ্য আলোচনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করছে।গণতন্ত্র কেবল ভোট আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সমন্বয়েই এর পূর্ণতা। সাম্প্রতিক সময়ে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যে আলোচনা ও বক্তব্য উঠে আসছে, তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে দায়িত্বশীল আচরণের ইঙ্গিত দেয়। বিরোধী মতকে শত্রু নয়, বরং গণতান্ত্রিক অংশীদার হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে উঠলে রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে।তবে বাস্তবতা হলো—এই সু-বাতাস এখনো পুরোপুরি স্থায়ী রূপ পায়নি। দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙতে সময় লাগবে। প্রয়োজন হবে আন্তরিকতা, ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে জনগণের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় পরিণত হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে স্বল্পমেয়াদি কৌশলগত লাভের হিসাব না করে দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।চরম অস্থিরতার রাজনীতিতে যে আশার আলো দেখা দিচ্ছে, তা ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্বশীল রাজনীতি, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং জনগণের সক্রিয় ও নির্ভীক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আবারও একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও টেকসই গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসতে পারে। এই সু-বাতাস যেন ক্ষণিকের ঝড় না হয়ে স্থায়ী পরিবর্তনের হাওয়ায় রূপ নেয়—এটাই আজ জাতির প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আমাদের লাইক পেজ

Recent Comments

No comments to show.