বিশেষ প্রতিনিধি :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব নির্দেশনার কথা জানান তিনি। সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানসম্মত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। যারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাবে, তারা সফল হতে পারবে না—এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টি বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো তৎপরতা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারণার সময় যেন জনজীবনে বিঘ্ন না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাস্তাঘাট অবরোধ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট (ফেজ-২) এর অগ্রগতি, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

