বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিম’-এর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।নির্বাচন কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। এ লক্ষ্যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের প্রবণতাও কম। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, সহিংসতা এড়িয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখাই সবার দায়িত্ব।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আজকের বৈঠকে বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি দেখে কমিশন আশাবাদী। বৃহত্তর চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য দ্রুত তুলে ধরার মাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব রয়েছে। অপতথ্য প্রচার যেমন অপরাধ, তেমনি যাচাই না করে তা শেয়ার করাও আইনত দণ্ডনীয়—এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ইনকোয়ারি কমিটি ও কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে তা জানানো যাবে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযানে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। অতীতের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হবে না—এ বিষয়ে কমিশন দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, অভিযানের পর সেসব তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি, যাতে কেউ অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ না পায়। অপরাধ করলে তা শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হবে—এই বার্তাই দিতে হবে।এ সময় তিনি নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অতীতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ নজরদারি প্রয়োজন।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমদ খাঁনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

