ডেস্ক রিপোর্ট ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোই পারে একটি আত্মনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।‘৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস’-এর প্রাক্কালে প্রদত্ত এক বাণীতে তিনি বলেন, “কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, কুটিরশিল্প, সঞ্চয় ও ঋণদানসহ বিভিন্ন খাতে সমবায়ের নীতি অনুসরণ করলে দেশের অর্থনীতি আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।ড. ইউনূস জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে সমবায় খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নবজাগরণ ঘটবে এবং জনগণের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।তিনি বলেন, “‘সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল, ১ নভেম্বর ২০২৫, দেশব্যাপী ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হবে, যা নিঃসন্দেহে আমাদের সমবায় আন্দোলনের জন্য এক উৎসাহব্যঞ্জক অধ্যায়।প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, সামাজিক সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়ন উদ্যোগ টেকসই হয় না। তাই সমবায় শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি মনে করেন, সমবায় সমিতিগুলো সমাজের নানা সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—দারিদ্র্য দূরীকরণ থেকে শুরু করে শিক্ষার বিস্তার, নারী ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতেও এর ভূমিকা অপরিসীম।ড. ইউনূস বলেন, “দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সমবায় আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে থাকবে না বৈষম্য, থাকবে ন্যায়, সাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।সবশেষে তিনি সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, সমবায়ের আদর্শ ও চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা সকলে মিলে গড়ে তুলি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ।জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

