কোরানের পাখি
আওরঙ্গজেব কামাল
———————————-
এরা হল পবিত্র কোরানের পাখি।
নির্মল, পবিত্র, আলোর দূত যেন—
যে আকাশে উড়ে বেড়ায়, মনে করিয়ে দেয় স্রষ্টার নাম।
একটু ফাঁক পেলেই, যেন আনন্দে মেতে উঠে—
যেন বলছে, “আলহামদুলিল্লাহ্!”
প্রতিটি ডানার ঝাপটাতেই লুকিয়ে আছে বন্দেগি।
রাতের পর্দা সরে যাচ্ছে ধীরে ধীরে…
আকাশে ফিকে আলো ফুটে উঠছে।
এই নিস্তব্ধ ভোরে, যখন দুনিয়া এখনো ঘুমিয়ে,
তখন জেগে ওঠে কিছু অদ্ভুত প্রাণ —
পবিত্র কোরানের পাখি।
তাদের ডাক, মানুষের মতোই তাসবিহ্র সুরে মিশে যায়।
প্রতিটি কিচিরমিচির যেন বলে —
“সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহু আকবার।”
যেই আলো ফোটে,
ওরা ডানা মেলে আকাশে —
যেন নতুন দিনের আয়াত খুলে যাচ্ছে।
তুমি কি কখনো খেয়াল করেছো?
একটু ফাঁক পেলেই তারা আনন্দে মেতে ওঠে,
যেন বলছে, “আমরা মুক্ত, আমরা স্রষ্টার বান্দা।”
তাদের উড়ানে কোনো অহংকার নেই,
শুধু তাসবিহ্ আর তাওহিদের মৃদু সুর।
দুপুরে সূর্য যখন মাথার ওপরে,
সবাই ব্যস্ত, দুনিয়া দৌড়াচ্ছে —
তখনও সেই পাখিরা ছায়ায় বসে,
পাখা মেলে একটু বিশ্রাম নেয়।
তারা জানে, প্রতিটি নিঃশ্বাসই নিয়ামত,
প্রতিটি ছায়াই রহমত।
তারা আমাদের শেখায় —
অস্থিরতার মাঝেও তাওয়াক্কুল রাখতে হয়,
বিশ্বাস রাখতে হয় সেই এক আল্লাহর উপর,
যিনি খাবার দেন উড়ন্ত পাখিকেও।
বিকেলে আকাশে সোনালি আলো,
ডানা ভরে ফিরে আসে তারা।
কেউ ডালে বসে, কেউ ঘরে ফিরে যায়,
কিন্তু কারো মুখে কোনো অভিযোগ নেই।
তাদের চোখে ক্লান্তি নেই,
তাদের মনে কৃতজ্ঞতা —
যেন বলছে, “আজও আমরা বেঁচে আছি,
আজও আমরা তাঁর নিয়ামতের সাক্ষী।”
সূর্য অস্ত যায় ধীরে ধীরে,
আকাশে লালচে রঙ ছড়িয়ে পড়ে।
পাখিরা শেষবারের মতো উড়ে যায় —
তাদের সুর মিলিয়ে যায় আজানের ধ্বনিতে।
এই মুহূর্তে মনে হয়,
তাদের তাসবিহ্ যেন আকাশ ছুঁয়ে যায়,
আর আমরাও হয়তো একটু থেমে ভাবি —
আমরা কি তেমনি কৃতজ্ঞ?
আমাদের হৃদয়ও কি প্রতিটি ডানার মতো,
তাঁর দিকে ফিরে যেতে চায়?
এরা হল পবিত্র কোরানের পাখি…
যারা আলোর পথে উড়ে যায়,
আর আমাদের শেখায় —
পবিত্রতা মানে নিঃস্বার্থ বন্দেগি।
একটু ফাঁক পেলেই আনন্দে মেতে ওঠা,
তা যেন শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।

