বিশেষ প্রতিনিধি : তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়ে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জানাজাস্থলে গিয়ে তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বুধবার বিকেল ৩টা ৪ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশ নেন। জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি অতিথিরা। পুরো আনুষ্ঠানিকতা সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও মরহুমার জানাজায় অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উল্লেখযোগ্য। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে দাফন সম্পন্ন হয়। কবরস্থানের দিকে নেওয়ার সময় সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে মরদেহবাহী কফিন বহন করেন। দাফন কার্যক্রম চলাকালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, কন্যা জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

