বিশেষ প্রতিনিধি : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ভিড় করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ফুলেল শ্রদ্ধা, কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে তারা প্রয়াত এই নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর জিয়া উদ্যানের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হলে একে একে প্রবেশ করতে থাকেন শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষজন। প্রবেশের পর তারা খালেদা জিয়ার কবরে ফুল অর্পণ করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি দেশের নানা জেলা থেকেও মানুষ এসে জড়ো হন জিয়া উদ্যানে।এর আগে সকাল থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্যান এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং উদ্যানসংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং দুপুর ১২টায় দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যান উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত, কেউ নীরবে কবর জিয়ারত করছেন, আবার কেউ হাত তুলে দোয়া করছেন। পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।শ্রদ্ধা জানাতে আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সম্মিলিত নাগরিক দলের মহাসচিব নুরুল হুদা খান বাবু বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি। দেশ একজন অভিভাবকসম নেত্রীকে হারিয়েছে, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবাই দোয়া করবেন।তিনি আরও বলেন, “দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।মিরপুর থেকে আসা মাহমুদা বেগম বলেন, “আমরা শুধু তার কবর জিয়ারত করতে এসেছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।”উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং এর অংশ হিসেবে বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি পালন করা হয়।

